Tuesday, January 14, 2020

নবাব ও কমিউনিস্ট...

 বাংলাদেশের নিরীহ ময়মনসিংহের চৌধুরী বংশের এক জমিদার আর বাংলার ইতিহাসের বেট্রয়েড নবাব সিরাজুদ্দলাহ কোথায়  যেন এক হয়ে যায় -মুর্শিদাবাদের রাজ্যছাড়া নবাব ...কাশ্মীরের বাঙালি মোহনলাল ...মাত্র ২২ সের ওজনের রূপসী আলেয়া ....আর এক কমিউনিস্ট এর আত্মত্যাগ এক সুরে বেঁধে দেয় এতগুলো জীবন নবাব থেকে সর্বহারার লড়াই-সত্যি কি বিচিত্র এ দেশ /
১৭৫৭ র জুন মাসের এক দুপুর -যুদ্ধ্যক্ষেত্রে মীরমদনএর  পতন হয়েছে, ছন্নছাড়া সিরাজের বাহিনী-সিরাজুদ্দলাহ ডেকে পাঠালেন তার সেনাপতি মীরজাফর কে , প্রিয় মিত্র মোহনলালের বারণ শুনলেন না,/ সুযোগ বুঝে সিরাজকে পরদিন সকাল অবধি অপেক্ষা আর ওদিকে ইংরেজদের আক্রমণের 
আহ্বাণ -সেদিন পাল্টে দিয়েছিলো ইতিহাসের পথচলা/
যুদ্ধক্ষেত্রে তখন নবাব সৈন্যরা দিশাহারা ,প্রমাদ গুনলেন মোহনলাল -তার যে সিরাজের সাথে বিশেষ সম্পর্ক -তার বোন আলেয়া যে সিরাজের স্ত্রী / তার মুর্শিদাবাদের বাড়িতে আছেন সিরাজ পুত্র .যুদ্ধক্ষেত্রে রটিয়ে দিলেন যে মোহনলাল মৃত , সিরাজ সন্তান কে সঙ্গে নিয়ে পালালেন ময়মনসিংহ এলাকার বোকাইনগর গ্রামে, সেখানকার জমিদার শ্রীকৃষ্ণ রায় চৌধুরীর ছোট ছেলে গোপালকৃষ্ণ নিঃসন্তান  /ব্যবস্থা করলেন গোপনে দত্তকের - সিরাজের ছেলের আসল পরিচয় জানলেন তিনজন শ্রীকৃষ্ণ রায় চৌধুরী , মোহনলাল আর মোহনলালের এক বিশস্ত সঙ্গী আর বাকি সবাই জানল সে হিন্দু সম্ভ্রান্ত পরিবারের এক সন্তান/
নাম বদলে তার নাম হলো যুগলকিশোর রায় চৌধুরী ,মোহনলালও  সন্ন্যাসীর বেশে এসেছিলেন সেই অনুষ্ঠানে - যুগলকিশোরের গল্প অন্য একদিন , ফিরে আসি মূল ঘটনায়/
বার বার নাম বদলে , জমিদারি বদলে তার বংশধর রা আজও  বর্তমান -কেউ বাংলাদেশে , কেউ বা ভারতে কেউ সেটলড স্টেটস এ /আর বংশপরম্পরায় তাদের ইতিহাস গোপন করে রয়ে গেছেন পর্দার আড়ালে /
বঙ্কিমচন্রের লেখায় দেবীচৌধুরী রানীতে যে ভবানী পাঠকের কথা আমরা পাই -ঐতিহাসিক অমলেন্দু দে তার বই " সিরাজের পুত্র ও বংশধরের সন্ধানে" তে বিভিন্ন ডকুমেন্ট এর  সাহায্যে তার বিশ্বাস জন্মেছিলো যে এই ভবানী পাঠকই মোহনলাল , কারণ তাদের সময়কাল এক -গল্প ও বাস্তবের  প্রেক্ষাপটের অঞ্চল এক আর বঙ্কিম এর এক সহপাঠী ছিলেন সেই বংশের ছেলে / 

কথার শুরুর কম্যুনিস্টের গল্পে আসা যাক -তার নাম শরদিন্দু দে - পরিচয় লুকোনোর আড়ালে তখন তাদের বংশ পদবি রায়চৌধুরী থেকে বদলে দে , কিন্তু রক্তে নবাবী রক্ত- সেই শরদিন্দু কিনা ভালোবেসে ফেললেন কমিউনিস্ট পার্টি কে , জেল আর গা ঢাকা দিয়ে থাকলেন ২০ বছর -কমিউনিস্ট পার্টি তখন নিশিদ্ধ পূর্ব পাকিস্তান এ- ১৯৬৯ নাগাদ ফিরে এলেন ভারতে -ত্রিপুরার কমিউনিস্ট সরকার তাকে থাকতে জায়গা দিলেন আগরতলায় -স্বাধীনতা সগ্রামী এক নবাবী বংশধর জীবনটা কাটিয়ে দিলেন কমুনিস্ট হয়ে অগোচরে -ইতিহাস কি বিচিত্র্য /
শেষ টা করি যদুনাথ সরকারের মন্তব্যে-
Thus ended Muslim rule in Bengal ; the foreign master of the sword had become its kingmaker ;



আরো জানতে পড়তে পারেন অমলেন্দু দের সিরাজের পুত্র ও বংশধরের সন্ধানে....

নিশাচর

রাবননামা...



 

পশ্চিমের এক রাজ্য মন্দদর -ঐতিহাসিক তাৎপর্য তার অপরিসিম -কালের নিয়মে অবশ্য বিস্মৃতির আড়ালে/ এই রাজ্যের রাজকন্যা ছিলেন মন্দোদরী -নামটা যেন কোথায় চেনা -তাই না ! 
প্রাচীন ভারতের রামায়ণের মূল খলনায়ক-কারোর কাছে আবার আদি ভারতের প্রতিনিধি যিনি আর্যদের বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছিলেন -আর তার স্ত্রী হলেন মন্দোদরী/

যখন রাম রাবন কে বধ করলেন  -রামের কাছে আসেন মন্দোদরী -যুদ্ধ তখন শেষ-রাম ওনাকে না চিনেই আশীর্বাদ করেন এক জন সধবা হিসেবে - কিন্তু রাবন তখন মৃত -কিন্তু আশীর্বাদ ফিরিয়ে নেওয়া সম্ভব নয় /তাই রাম আদেশ করেন যেন রাবনের চিতা জ্বলে সর্বক্ষণ -যাতে মন্দোদরী বিধবা না হন-চিতার আগুন থাকে যতক্ষণ -স্ত্রী বিধবা হন না /
তাই আজও রাবন কে জ্বালানো হয় -আলোকিত হয় চারদিক -মন্দোদরী আজও হয়তো কোথাও একা আকাশের নিচে / 
কালের নিয়মে শহর হারিয়ে যায়-হারিয়ে যায় সভ্যতা -সত্যি...গল্প মিশে তৈরি হয় মিথ - 
রাতের আকাশে তারা গুলো সব জানে/ 
আজ গল্প এই অবধি থাকে -আবার এক গল্প  অন্য দিন /

১৯সে ফাল্গুন ১৪২৫

গেহলট নামের ইতিকথা


আজকে চলো যাওয়া যাক   - গেহলট বংশের খোঁজে  -রাজপূত বংশ গেহলট -আজ তাদেরই একজন অশোক গেহলট বর্তমান রাজস্থানের   মুখ্যমন্ত্রী /

আমাদের এই কাহিনীর সূত্রপাত  রামায়ন / সত্যি মিথ্যের মায়াজালে না জড়িয়ে - রসাস্বাধনে যদি পাড়ি দিই ইতিহাসে -তাহলে এই বংশের মূলে পাবো লবকে  -লব -রামের দুই ছেলের একজন-আমাদের খুব পরিচিত লব কুশ /
অযোধ্যায় রামরাজ্য ছেড়ে লব একসময় পাড়ি দেন পশ্চিম পাঞ্জাবে  -সেখানে তার ছায়ায় গড়ে ওঠে এক শহর- যাকে আমরা আজকে চিনি- লাহোর নামে-সেই লাহোরে  তার পরবর্তী প্রজন্মের হাত ধরে শুরু হয় সূর্যবংশ/
খৃস্টাব্দ দ্বিতীয় শতকের শুরুতে সেই বংশের এক রাজা নাম কনক সেন- তার হাত ধরেই  স্থাপিত হয় বিজয়পুর,বিদর্ভ আর ভালা/
এদের সবচেয়ে প্রতাপশালী রাজা ছিলেন শিলাদিত্য/ কিন্তু সময়ের নিয়মে ইরানি এক সম্প্রদায়ের হাতে পরাজয় এবং মৃত্যু..না সূর্যদেব ও পারেননি তার পতন রোধে-
বংশের সবাই মারা পড়লেন-
কিন্তু ভাগ্যের চক্রে বাঁচলেন এক রানী -এই সময় এ তার গর্ভে জন্ম নিলেন গুহা/নামটা বড় অদ্ভুত  কিন্তু নাম এর ইতিহাস তার জন্মস্থানের  সাথে জড়িত- এক গুহায় জন্ম হয় তার- সেই প্রতিকূল পরিবেশে -মা মারা যান -এক ব্রাহ্মণী মানুষ করে তোলেন /
জঙ্গলবাসি ভীলদের হাতেই হয় তার রাজ্যাভিষেক- কিন্তু রাজা হওয়ার পর সেকথা মনে রাখেন নি গুহা  -শক্ত হাতে দমন করেন ভীলদের ইতিহাস তার সেই বিশ্বাসঘাতকতা ভোলে নি-থাক সে গল্প অন্য একদিনের -তার পরবর্তী বংশের রাজারা গ্রহণ করলেন নাম গাহিলট-গুহার থেকে  -সময়ের ব্যবহারে বদলে তা হলো গেহলট/

সেই গেহলটরা আজও রয়ে গেছেন ক্ষমতার অলিন্দে/
সেই রামও  নেই আর সেই অযোধ্যাও নেই -কিন্তু আজো ভারতের রাজনীতির প্রাঙ্গনে তিনি সমান প্রাসঙ্গিক-/
আজ থাকুক এই অবধি -আবার যদি ইতিহাস বলে কিছু  তোমাদের বলবো...অন্য কোনো এক গল্প ...কোনো রাজার বা কবির.. বা তোমার/